পাবনার অনন্ত বাঁধ কলোনিতে কিশোর আরাফাত (১৯) হত্যার পাঁচ দিন পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার (৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে।
নিহত আরাফাতের মায়ের নেতৃত্বে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও কিশোররা অনন্ত বাজার মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে পথসভা করে তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। জেলা প্রশাসক মফিজুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণ করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।
পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে নিহতের পরিবারকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হলেও বাকি জনতাকে আটকানো হয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা গেট অতিক্রম করে ভিতরে প্রবেশ করে। তবে পুলিশ মানবিক ও সহনশীল আচরণ করায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা স্মারকলিপি গ্রহণ করে জানান, “আমরা অধিকতর তদন্ত করছি। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সাত দিনের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
প্রশাসনের আশ্বাসে এলাকাবাসী শান্তভাবে ফিরে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেথর কলোনির দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শহিদ মেম্বারের অনুসারীরা আরাফাতকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শহিদ মেম্বারের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসীরা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করে “হত্যাকারীরা আওয়ামিলীগ নেতা ও মাদক ব্যবসায়ী হলেও এই নতুন সরকারের সময় এখনও কেন একজনও গ্রেফতার হয়নি? বর্তমান রাষ্ট্রপতির এলাকায় এ কেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি? তবে কি আমরাও আইন নিজের হাতে তুলে নেবো?”
পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, “ঘটনাটি আধিপত্য বিস্তারজনিত। অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে, দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
