নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি লেয়ার মুরগীর খামার থেকে ১৮০ গ্রাম ওজনের একটি ডিম পাওয়া যায়। এমন এক ব্যাতিক্রম ঘটনা ঘটে উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াজেদ সরদারের ছেলে গোলাম কিবরিয়া রিপনের লেয়ার মুরগীর ফার্মে। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
লেয়ার মুরগীর ডিমের ওজন সাধারণত ৫০-৬০ গ্রাম হয়ে থাকে, সেখানে এই বিশাল আকৃতির ডিম দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত হয়েছে । ডিমটি এক নজর দেখতে গোলাম কিবরিয়া রিপনের বাড়িতে প্রতিদিনই মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
রবিবার (০৯মার্চ) সকালে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় গোলাম কিবরিয়া রিপন তার মুরগীর খামারে কাজ করতে ব্যাস্ত রয়েছেন। এসময় তিনি জানান, ৫ মাস আগে ৬৫০টি লেয়ার মুরগীর নিয়ে বাড়িতে খামার শুরু করেন। এক মাস ধরে মুরগীগুলো নিয়মিত ডিম দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন ৫৮৫টি করে ডিম সংগ্রহ করছেন খামার থেকে। গত বুধবার সকালে তার মা খামারে গিয়ে ১টি খাঁচায় অস্বাভাবিক বড় আকৃতির ১টি ডিম দেখতে পায়। প্রথমে ভয় পেলেও পরে তিনি পরিবারের অন্যদের বিষয়টি জানান। পরে তিনি ডিমটি সংগ্রহ করে ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করলে দেখা যায়, ডিমটির ওজন ১৮০ গ্রাম! এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ ডিমটি দেখতে ভিড় জমাতে থাকেন তার বাড়িতে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও হারুনর রশিদসহ অনেকে জানান, এত বড় মুরগীর ডিম তারা আগে কখনও দেখেননি। সাধারণ ডিমের তুলনায় এটি প্রায় চার গুণ বড়, পাশাপাশি ডিমটির গঠনও স্বাভাবিকের তুলনায় ভিন্ন। এর খোলস মসৃণ নয়, বরং কিছুটা অস্বাভাবিক।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, সাধারণত লেয়ার মুরগীর ডিম ৫০-৬০ গ্রাম হয়ে থাকে।
কোনো মুরগী অনিয়মিত ডিম দিলে তার ডিমে একাধিক কুসুম থাকতে পারে, যার ফলে ওজন ৮০-১০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। তবে ১শ ৮০ গ্রাম ওজনের ডিম পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তিনি আরও জানান, তাঁর চাকরিজীবনে এত বড় মুরগীর ডিমের কথা এই প্রথম শুনলেন।
অস্বাভাবিক আকারের এই ডিম নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
