ঢাকাবুধবার , ২১ মে ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নগরবাড়ি ঘাটে বালু উত্তোলনের নামে মাটি কাটা: পরিবেশ ও জনপদ মারাত্মক ঝুঁকিতে

জুবায়ের খান প্রিন্স, পাবনা:
মে ২১, ২০২৫ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

পাবনার সুপরিচিত নদীবন্দর নগরবাড়ি ঘাটে নদীচ্যানেল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত বালু নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শুকনো জমিতে মজুত রেখে বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে রঘুনাথপুর মৌজায় দেখা গেছে, নলকোলা বাজারসংলগ্ন এলাকায় ভেকু মেশিন দিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর গর্ত তৈরি করে জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে আশপাশের জনপদ, রাস্তা, কৃষিজমি, এমনকি বাজার এলাকা পড়েছে চরম ঝুঁকির মুখে।

বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কেটে নেওয়া হচ্ছে বিনা অনুমতিতে এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়াই। আবু শাহীন মোল্লা বলেন, “ঠিকাদাররা জোর করে আমার জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। কোনো অনুমতি নেয়নি, চাষাবাদে বড় ক্ষতি হচ্ছে।” একই অভিযোগ করেন মজনু শেখ ও শাহীন শেখ।

এদিকে মাটি কাটা ও বালু পরিবহনের ফলে রাস্তায় ধুলাবালির প্রকোপ বেড়েছে, বিনষ্ট হয়েছে বন্দরের কয়লা রাখার স্থান এবং আশপাশের ফসলি জমি হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা মো. ওয়াকিল জানান, “বালু বিক্রির টেন্ডার সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। বিষয়টি তাঁর এখতিয়ার।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীপাড় কেটে ফেললে পাশের জমির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো। পরিবর্তিত হয় পানি প্রবাহের ধারা, যা নতুন ভাঙনের জন্ম দেয় এবং বন্যার সময় প্রাণ ও সম্পদের ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত মাটি কাটা বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী শুধুমাত্র নির্ধারিত শুকনো অংশ থেকে বালু উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা বালু ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে সব সময় সক্রিয়। খবর পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী এই কমিটির সদস্য সচিব; তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবো।”

 


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!