ব্যবসায়িক প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী শাখার অতিরিক্ত পরিচালক শাহানাজ বেগম ও তার স্বামী, সাজ অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহ সরকার-এর বিচারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে শেখপাড়া এলাকায় অবস্থিত সাজ অটো রাইস মিলের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এসময় বিক্ষোভকারীরা তাদের পাওনা টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে সাজ অটো রাইস মিল প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী শুকুর হাজী, নাজিম উদ্দিন, আব্দুল মান্নান ডাবলুসহ একাধিক ব্যক্তিকে অংশীদার ও বিনিয়োগকারী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ প্রায় এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন শাহানাজ বেগম ও শহীদ উল্লাহ সরকার। এর মধ্যে শুকুর হাজীর কাছ থেকে মিল ভাড়া দেওয়ার নামে ৭২ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে শুকুর হাজীসহ অন্যদের জোরপূর্বক মিল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পাওনা অর্থ ফেরত চাইলে একে একে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগীরা।
বক্তারা দাবি করেন, নাজিম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম মুন্সী, রাসেল হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে হয়রানি করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
এছাড়া ৭২ লাখ টাকার চুক্তিতে রাইস মিল ভাড়া দেওয়ার পর ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহানাজ বেগম। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কারও কোনো পাওনা নেই। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি সংবাদ প্রকাশে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শহীদ উল্লাহ সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে বক্তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
