ঢাকাশনিবার , ১২ জুলাই ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈশ্বরদীতে বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে আবারও গুলিবর্ষণ, গুলিবিদ্ধ-১

হাবিবুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক
জুলাই ১২, ২০২৫ ৪:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেয়ার করুন...

পাবনার ঈশ্বরদীতে বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে ফের ফিল্মি কায়দায় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে লালপুরের কুখ্যাত ‘কাকন বাহিনী’র বিরুদ্ধে। গুলিতে গরুর এক রাখাল সোহান হোসেন (২৮) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার সাড়া ইউনিয়নের সাড়া ও ইসলামপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ সোহান হোসেন ঈশ্বরদীর মাজদিয়া চৌধুরীপাড়া এলাকার সাহাবউদ্দিন মোল্লার ছেলে। তাকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্র, বালু ব্যবসায়ী এবং পুলিশ জানায়, পাবনার ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা-দৌলতপুর এবং নাটোরের লালপুরসহ আশপাশের এলাকার অধিকাংশ বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করছে লালপুরের প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘কাকন বাহিনী’। তবে ঈশ্বরদীর সাড়া ঘাটে বৈধ ইজারাদার থাকায় সেটি দখলে নিতে পারছে না তারা। গত ৫ জুনও এই ঘাটে গুলিবর্ষণ করে কাকন বাহিনী, যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে। কিছুদিন বিরতির পর শনিবার সকালে ফের সংঘবদ্ধ হয়ে তারা স্পিডবোর্ড ও নৌকাযোগে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

এ সময় গরুর জন্য ঘাস কাটতে যাওয়া সোহান হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গুলিবিদ্ধ সোহান বলেন, ‘আমি ঘাস কাটতেছিলাম। হঠাৎ দেখি স্পিডবোর্ড আর নৌকা থেকে গুলি ছোড়া শুরু হয়। আমি একটু উপরে উঠে দেখছিলাম, তখনই গুলি এসে আমার হাতে লাগে। আমি সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ি। পরে লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।’

সরকারি ইজারাদার মেহেদী হাসান ও টনি বিশ্বাস অভিযোগ করেন, লালপুরের আওয়ামী লীগ নেতা কাকন ও ঈশ্বরদী যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মিলন চৌধুরী সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে বৈধ ও অবৈধ সব বালুমহাল দখল করতে চাইছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে সরকারি ইজারা নিয়ে বালু ব্যবসা করছি। অথচ তারা আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। দিতে অস্বীকার করলেই গুলি চালায়। এভাবে কি ব্যবসা করা সম্ভব? কৃষকরাও কাজ করতে পারছে না। প্রশাসন কোনো নিরাপত্তা দিতে পারছে না।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা কাকন ও যুবলীগ নেতা মিলন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!